🔍 Searching...

🔍

ইমারত নির্মাণের কি কি নিয়ম-কানুন যেনে নিন ।

ইমারতের নকশা অনুমোদন ও নির্মাণ অনুমতির নিয়ম বাংলাদেশে | Building Plan Approval Rules

🏛️ ইমারতের নকশা অনুমোদন ও নির্মাণ অনুমতির নিয়ম বাংলাদেশে

ইমারত নির্মাণের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থা নীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে — রাজধানী ঢাকার জন্য রাজউক, বিভাগীয় শহরের জন্য সিটি কর্পোরেশন, জেলা শহরের জন্য পৌরসভা ইত্যাদি। এসব নিয়ম মেনে ইমারত নির্মাণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে অনুমতি গ্রহণ করতে হয়। একে বলা হয় “ইমারতের নকশা ও বসবাস উপযোগিতার অনুমোদন”।

Building plan approval process in Bangladesh through RAJUK, City Corporation and Municipality authorities
Official building plan approval and construction permission process for residential buildings in Bangladesh

📜 অনুমোদনের মূল ৩টি পর্যায়

১. ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র

ভূমি ব্যবহারের অনুমতি, পরিকল্পিত এলাকার বাইরে উন্নয়নের জন্য কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র প্রয়োজন।

২. নির্মাণ অনুমোদনপত্র

নির্মাণ শুরুর পূর্বে স্থাপত্য ও কাঠামো নকশার অনুমোদন।

৩. বসবাস বা ব্যবহার সনদপত্র

নির্মাণ সম্পন্ন হলে “অকুপেন্সি সার্টিফিকেট” গ্রহণ বাধ্যতামূলক।

📌 ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র (Land Use Clearance)

  • কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত কিন্তু পরিকল্পিত এলাকার বহির্ভূত ভূমির জন্য আবেদন করতে হবে।
  • মালিকানা কাগজপত্র, নির্ধারিত ফি ও জরিপ ম্যাপ (১:৫,০০০ বা ১:১০,০০০ স্কেলে) সহ আবেদন করতে হবে।
  • ছাড়পত্রের মেয়াদ: অনুমোদনের তারিখ থেকে ২৪ মাস। মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে নবায়ন করতে হবে।

🏗️ নির্মাণ অনুমোদনপত্র (Building Permit)

নতুন নির্মাণ বা বিদ্যমান অবকাঠামো পরিবর্তন/পরিবর্ধনের জন্য আইন অনুযায়ী নির্মাণ অনুমোদনপত্র গ্রহণ করতে হবে। নকশায় যোগ্যতাসম্পন্ন স্থপতি/প্রকৌশলীর স্বাক্ষর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকতে হবে।

📎 আবেদনের সাথে প্রয়োজনীয় দলিল (RAJUK/সিটি কর্পোরেশন)

  • ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের অনুলিপি
  • ফি প্রদানের রশিদ
  • মালিকানা দলিলের সত্যায়িত কপি
  • মৃত্তিকা পরীক্ষা (Soil Test) প্রতিবেদন
  • অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ক্ষেত্রে তলাওয়ারী ইউনিটের সংখ্যা
  • প্লটের ক্ষেত্রফল, ভূমি আচ্ছাদন, সেটব্যাক, মোট তলার সংখ্যা
  • স্থপতি/প্রকৌশলীর অভিজ্ঞতা ও পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানে তালিকাভুক্তির সনদ

📐 নকশায় যা যা উল্লেখ থাকতে হবে

  • টাইটেল, আবেদনকারীর নাম-ঠিকানা-স্বাক্ষর
  • পরিকল্পনাবিদ/স্থপতি/প্রকৌশলীর নাম, ঠিকানা, স্বাক্ষর, পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর
  • প্লট বা হোল্ডিং নম্বর, রাস্তার নাম, এলাকা, লে-আউট অনুমোদনের রেফারেন্স (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
  • মৌজার নাম, সি.এস./আর.এস./এস.এ. দাগ নম্বর বা প্লট নম্বর, থানার নাম
  • সাইট প্ল্যান (১:৪০০০ স্কেলে) – মৌজা, দাগ, পার্শ্ববর্তী প্লট, রাস্তার নাম ও প্রস্থ ইত্যাদি
  • লে-আউট নকশা (১:২০০ স্কেলে) – সাইটের সীমানা, বিদ্যমান/প্রস্তাবিত ভবন, সেটব্যাক, রাস্তা হতে দূরত্ব, পার্কিং, নর্দমা, সেপটিক ট্যাংক, সোকপিট, আবর্জনা স্থান

🏡 বসবাস বা ব্যবহার সনদপত্র (Occupancy Certificate)

  • নির্মাণ সম্পন্ন হলে আস-বিল্ট ড্রইং (As-Built Drawing) সহ আবেদন করতে হবে।
  • প্রয়োজনীয় নকশা: সমাপ্তি প্রতিবেদন, আস-বিল্ট আর্কিটেকচারাল ড্রইং, স্ট্রাকচারাল ডিজাইন ও বিল্ডিং সার্ভিসেস নকশা।
  • নকশার যথাযথতার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী বহন করবেন।

🏛️ রাজউক (RAJUK) এর নকশা অনুমোদনের অতিরিক্ত শর্ত

  • ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র (ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির জন্য নগর পরিকল্পনা শাখা, রাজউক প্লটের জন্য এস্টেট শাখা)
  • উন্নয়ন অনুমতিপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
  • নির্মাণ অনুমোদন ফরম নং-৪০১ (মূল্য ৩০০ টাকা) নির্ধারিত ব্যাংক হতে সংগ্রহ করতে হবে
  • FAR (Floor Area Ratio) এর হিসাব নকশায় উল্লেখ করতে হবে
  • নির্ধারিত ফি ব্যাংকে জমা ও রশিদ জমা দিতে হবে
  • স্থাপত্য নকশা প্রণয়নকারী প্রকৌশলী/স্থপতি, মালিক/ডেভেলপারের নাম, পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নম্বর, ঠিকানা ও ফোন নম্বর উল্লেখ থাকতে হবে
  • নির্মাণকালীন বিভিন্ন পর্যায়ে কারিগরি ব্যক্তি কর্তৃক প্রত্যয়ন প্রয়োজন

🏘️ পৌরসভায় নকশা অনুমোদনের নির্দেশিকা

  • নকশার ৮টি অনুলিপি জমা দিতে হবে (Plan, Elevation, Section, Site Plan, Lay‑out Plan)
  • নকশায় মালিক ও নকশা প্রস্তুতকারীর স্বাক্ষর থাকতে হবে
  • নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হবে
  • Plan, Elevation, Section এর স্কেল ১ ইঞ্চি = ৮ ফিট; Site Plan এর স্কেল ১ ইঞ্চি = ৩৩০ ফিট (নির্মাণ প্লট লাল কালিতে চিহ্নিত)
  • লে-আউট প্ল্যানে রাস্তা, রাস্তা হতে দূরত্ব, সেটব্যাক ও সংযোগ সড়ক পরিষ্কারভাবে দেখাতে হবে
  • প্রতিটি নকশায় স্কেল, মৌজার নাম, প্লট নম্বর ও মালিকের নাম উল্লেখ থাকতে হবে
  • অনুমোদনের ফর্ম মালিক কর্তৃক সঠিক তথ্য ও স্বাক্ষরসহ পূরণ করতে হবে
📌 সারসংক্ষেপ: বাংলাদেশে যে কোনো ইমারত নির্মাণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ (রাজউক/সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা) থেকে নকশা অনুমোদন ও নির্মাণ অনুমতি নেওয়া আইনগত বাধ্যবাধকতা। সঠিক দলিল, নির্দিষ্ট স্কেলে নকশা, স্থপতি/প্রকৌশলীর স্বাক্ষর ও ফি জমা সাপেক্ষে অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নির্মাণ শেষে আস-বিল্ট ড্রইং ও অকুপেন্সি সার্টিফিকেট গ্রহণ করাও অপরিহার্য।

Popular

BariPlans chat with us on WhatsApp
Hello, How can I help you? ...
Click me to start the chat...